বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে তার নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগ আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে ভারত ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় মার্কিন নৌ সম্পদ মোতায়েনের কারণে।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট (ACSA) এবং জেনারেল সিকিউরিটি অফ মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (GSOMIA)-এর মতো চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমান চট্টগ্রাম, মাতারবাড়িসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বিমানঘাঁটিতে রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি সরবরাহ ও লজিস্টিক সহায়তা পাবে। ওয়াশিংটন এটিকে মেরিটাইম সিকিউরিটি জোরদার এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকারী শক্তির মোকাবিলা হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।
তবে আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে প্ররোচনামূলক বলে মনে করছেন। বঙ্গোপসাগরে মার্কিন নৌ উপস্থিতি বৃদ্ধি ভারত-চীন উত্তেজনাকে আরও তীব্র করতে পারে এবং ঢাকাকে জোর করে একটি নির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক শিবিরে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে বেইজিংয়ের প্রভাব খর্ব করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি স্পর্শকাতর। বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং বঙ্গোপসাগর ভারতের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে অতিরিক্ত বিদেশি নৌ তৎপরতা বাণিজ্য, মৎস্য শিকার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জীবিকাকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশের ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’ নীতির সঙ্গে এই নতুন চুক্তিগুলো কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকার জন্য এটি একদিকে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ, অন্যদিকে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে আটকে পড়ার ঝুঁকি।
বঙ্গোপসাগর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এখানে যেকোনো বড় শক্তির সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি শুধু স্থানীয় দেশগুলোর নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে। সকল পক্ষের উচিত সংযম দেখানো এবং আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো। অন্যথায়, এই অঞ্চল বিশ্বশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, যার ফল ভোগ করতে হবে সাধারণ মানুষকে।
উৎস
– India.com
– Militarnyi.com
– Marine Insight
– Sri Lanka Guardian

