ওমান উপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো ভারতীয় এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ১৪ মার্চ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। এটি ভারতের জ্বালানি সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।ভারত সরকার জানিয়েছে যে, ভারতীয় জাহাজ ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে এখন ভারতের বন্দরগুলোর দিকে যাচ্ছে। এই দুটি জাহাজে মোট ৯২,৭০০ মেট্রিক টন এলপিজি রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও কিছু ভারতীয় জাহাজ প্রস্তুত অবস্থায় আছে। যদিও ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সরাসরি জাহাজগুলোকে সহায়তা করার কথা বলা হয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে নিশ্চিত হয়েছে যে, ভারতীয় নৌবাহিনী এই কাজে জড়িত। ভিডিওতে ‘শিবালিক’ জাহাজ থেকে একটি প্রজেক্ট ১৫ ডেস্ট্রয়ার (ভিশাখাপত্তনম/কলকাতা শ্রেণীর) এবং একটি এমএইচ-৬০আর হেলিকপ্টার দেখা গেছে।১৪ মার্চ তারিখের ওপেন সোর্স জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা থেকে জানা গেছে যে, অন্তত তিনটি ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ওমান উপসাগরে এমন একটি অবস্থানে ছিল, যা হরমুজ প্রণালী পার হওয়া ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার জন্য আদর্শ। তবে এই প্রকাশ্যে দেখা অবস্থানগুলোর নির্ভুলতা স্থানীয় জিপিএস ওঠানামার কারণে প্রভাবিত হতে পারে।ভারত, অন্যান্য কয়েকটি এশীয় দেশের মতো, তার জ্বালানি চাহিদার জন্য হরমুজ প্রণালীর উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’ উভয় ট্যাঙ্কারই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার। এই পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করবে।এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১২ মার্চ ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে কথা বলার পর। মোদি বলেছিলেন যে,
“ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং পণ্যের অবাধ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার।” এই আলোচনার আগে পারস্য উপসাগরে প্রায় দুই ডজন ভারতীয় জাহাজ এবং শত শত ভারতীয় নাবিক ছিলেন। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলায় একাধিক ভারতীয় নাবিক নিহত ও আহত হয়েছেন। দুই নেতার মধ্যে আলোচনার ফলে ভারতীয় জাহাজগুলোকে প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়ার একটি বোঝাপড়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।এর আগে ভারত তিনটি ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজকে কোচি বন্দরে ডক করার অনুমতি দিয়েছিল। তবে, আইআরআইএস ডেনা নামের হালকা ফ্রিগেটটি শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন দ্বারা ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ল্যান্ডিং জাহাজ আইআরআইএস লাভান কোচি বন্দরে এবং রিফ্লেনিশমেন্ট জাহাজ আইআরআইএস বুশেহর শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে ডক করেছিল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ১৪ মার্চ জানিয়েছেন যে, কোচি থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইট আটকে পড়া ইরানি নাগরিকদের, যার মধ্যে পর্যটক, কূটনীতিক এবং লাভানের অপ্রয়োজনীয় ক্রু সদস্যরা ছিলেন, তাদের ফিরিয়ে আনতে রওনা দিয়েছে। লাভান এখনও কোচি বন্দরে ডক করা আছে। ১৩ মার্চ শ্রীলঙ্কা ডেনায় মার্কিন হামলায় নিহত ৮৪ জন ইরানি নাবিকের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দিয়েছে।বর্তমানে ২২টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে রয়েছে বলে জানা গেছে, এবং ভারত সকলের জন্য নিরাপদ পথের চেষ্টা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিশ্ব নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীকে “খোলা এবং নিরাপদ” রাখতে সাহায্য করবে। যদিও ভারত এই পোস্টে উল্লিখিত দেশগুলোর মধ্যে ছিল না, তবে এটি বোঝা যাচ্ছে যে ভারত কোনো জোটের অংশ না হয়ে স্বাধীনভাবে জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে। এটি সম্ভবত অপারেশন সংকল্পের আওতায় পড়বে, যা ২০১৯ সাল থেকে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং এডেন উপসাগরে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চলমান রয়েছে।(এই নিবন্ধে উল্লিখিত শিবালিককে ভারতীয় নৌবাহিনীর ফ্রিগেট আইএনএস শিবালিকের সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।)এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে তুলে ধরে। ইরান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ হয়ে উঠেছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) একটি বড় অংশ পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মতো দেশ, যারা তাদের জ্বালানি চাহিদার জন্য এই প্রণালীর উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।ভারতের এই পদক্ষেপ কেবল তার নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারকেও প্রতিফলিত করে। যদিও ভারত কোনো বহুজাতিক সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে স্বাধীনভাবে তার জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটি তার নিজস্ব সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাবের একটি প্রমাণ। অপারেশন সংকল্পের অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে, যা ভারতের একটি সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করার ইচ্ছাকে স্পষ্ট করে।এই পরিস্থিতিতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইরানি প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে আলোচনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এই আলোচনায় ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং পণ্যের অবাধ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এই ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সংকটের সময়ে উত্তেজনা প্রশমনে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যখন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের হতাহতের খবর এসেছে, তখন এই আলোচনা আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে।অন্যদিকে, ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে ভারতে ডক করার অনুমতি দেওয়া এবং আটকে পড়া ইরানি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার ঘটনাগুলো ভারত ও ইরানের মধ্যে একটি জটিল কিন্তু কার্যকরী সম্পর্ককে নির্দেশ করে। যদিও মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় ইরানি ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনা ডুবে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, তবুও ভারত তার মানবিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এটি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যেখানে দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তার নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করে।সামগ্রিকভাবে, ওমান উপসাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ কর্তৃক এলপিজি ট্যাঙ্কার পাহারা দেওয়ার ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং তার জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞার একটি স্পষ্ট বার্তা। এটি কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। এই পদক্ষেপগুলো ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের একটি উদাহরণ স্থাপন করে।এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে তুলে ধরে। ইরান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ হয়ে উঠেছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) একটি বড় অংশ পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মতো দেশ, যারা তাদের জ্বালানি চাহিদার জন্য এই প্রণালীর উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।ভারতের এই পদক্ষেপ কেবল তার নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারকেও প্রতিফলিত করে। যদিও ভারত কোনো বহুজাতিক সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে স্বাধীনভাবে তার জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটি তার নিজস্ব সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাবের একটি প্রমাণ। অপারেশন সংকল্পের অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে, যা ভারতের একটি সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করার ইচ্ছাকে স্পষ্ট করে।এই পরিস্থিতিতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইরানি প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে আলোচনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এই আলোচনায় ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং পণ্যের অবাধ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এই ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সংকটের সময়ে উত্তেজনা প্রশমনে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যখন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের হতাহতের খবর এসেছে, তখন এই আলোচনা আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে।অন্যদিকে, ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে ভারতে ডক করার অনুমতি দেওয়া এবং আটকে পড়া ইরানি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার ঘটনাগুলো ভারত ও ইরানের মধ্যে একটি জটিল কিন্তু কার্যকরী সম্পর্ককে নির্দেশ করে। যদিও মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় ইরানি ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনা ডুবে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, তবুও ভারত তার মানবিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এটি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যেখানে দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তার নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করে।সামগ্রিকভাবে, ওমান উপসাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ কর্তৃক এলপিজি ট্যাঙ্কার পাহারা দেওয়ার ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং তার জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞার একটি স্পষ্ট বার্তা। এটি কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। এই পদক্ষেপগুলো ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের একটি উদাহরণ স্থাপন করে।
