Monday, April 20, 2026
HomeIndia Armed Forces & Internal Securityভারতের সমুদ্রের নিচে নিউক্লিয়ার শক্তি আরও বাড়ছে: আইএনএস অরিধামন শীঘ্রই যোগ দেবে...

ভারতের সমুদ্রের নিচে নিউক্লিয়ার শক্তি আরও বাড়ছে: আইএনএস অরিধামন শীঘ্রই যোগ দেবে নৌবাহিনীতে।

ভারতের নৌবাহিনী এখন একটা খুব বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। দেশের তৃতীয় নিজস্বভাবে তৈরি নিউক্লিয়ার চালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন আইএনএস অরিধামন খুব শীঘ্রই সেবায় যোগ দেবে। প্রতিরক্ষা সূত্রের কথা অনুসারে, এপ্রিল বা মে মাসের মধ্যেই এটি নৌবাহিনীর অংশ হয়ে যাবে। এই সাবমেরিন এখন শেষ পর্যায়ের সমুদ্র পরীক্ষায় আছে। পরীক্ষা শেষ হলে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করা হবে।

এই খবর ভারতের নিরাপত্তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর ফলে ভারতের কাছে প্রথমবারের মতো তিনটা নিউক্লিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন একসাথে থাকবে। এগুলো স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের অধীনে কাজ করবে। এই কমান্ড ভারতের নিউক্লিয়ার অস্ত্রের দায়িত্বে থাকে। তিনটা সাবমেরিন থাকলে ভারত “কন্টিনিউয়াস অ্যাট-সি ডিটারেন্স” অর্জন করতে পারবে। এর অর্থ হলো সবসময় সমুদ্রের কোথাও না কোথাও একটা নিউক্লিয়ার অস্ত্র বহনকারী সাবমেরিন লুকিয়ে থাকবে। যদি কখনো দেশের উপর আক্রমণ হয়, তাহলে এই সাবমেরিন থেকে প্রত্যুত্তর দেওয়া যাবে। এটাকে “সেকেন্ড স্ট্রাইক” ক্যাপাবিলিটি বলে। এতে শত্রুরা ভারতের উপর প্রথম আক্রমণ করতে দ্বিধা করবে, কারণ তারা জানবে যে ভারতের প্রত্যুত্তর নিশ্চিত।

আইএনএস অরিধামন আগের দুটো সাবমেরিনের চেয়ে অনেক বড় এবং শক্তিশালী। এর ওজন প্রায় ৭০০০ টন। আগের আইএনএস অরিহন্ত এবং আইএনএস অরিঘাতের চেয়ে এটি বেশি মিসাইল বহন করতে পারে। এতে কে-১৫ সাগরিকা মিসাইল থাকবে, যার রেঞ্জ ৭৫০ কিলোমিটার। আরও শক্তিশালী কে-৪ মিসাইল থাকবে, যার রেঞ্জ ৩৫০০ কিলোমিটার। এই রেঞ্জ দিয়ে এশিয়ার অনেক বড় অংশে আঘাত করা যাবে। এতে ভারতের নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স আরও মজবুত হবে।

এই সাবমেরিন ভারতের অ্যাডভান্সড টেকনোলজি ভেসেল প্রোগ্রামের অধীনে তৈরি হয়েছে। বিশাখাপত্তনমের শিপ বিল্ডিং সেন্টারে এটি তৈরি করা হয়েছে। লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো কোম্পানি এতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। এটি খুব গোপনীয় প্রকল্প। সাবমেরিনটি খুব চুপচাপ চলতে পারে। এতে বিশেষ সাউন্ড-অ্যাবজর্বিং টাইলস লাগানো আছে। এতে শত্রুরা সহজে খুঁজে পাবে না। এতে ইউএসএইচইউএস এবং পঞ্চেন্দ্রিয় সোনার সিস্টেম আছে, যা ভারত নিজেই তৈরি করেছে। এগুলো শত্রুর সাবমেরিন বা জাহাজ ধরতে সাহায্য করে।

সাবমেরিনের ইঞ্জিন হলো ৮৩ মেগাওয়াটের নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর। এতে জ্বালানি খুব কম লাগে। তাই এটি অনেক দিন সমুদ্রের নিচে থাকতে পারে। কয়েক মাস ধরে লুকিয়ে থেকে কাজ করতে পারে। এটি ভারতের “নো ফার্স্ট ইউজ” নীতির সাথে মিলে যায়। ভারত বলে যে প্রথমে নিউক্লিয়ার অস্ত্র ব্যবহার করবে না, কিন্তু আক্রান্ত হলে প্রত্যুত্তর দেবে। এই সাবমেরিন সেই প্রত্যুত্তর নিশ্চিত করে।

আইএনএস অরিধামন ভবিষ্যতে প্রজেক্ট বর্ষা থেকে অপারেশন করবে। এটি বিশাখাপত্তনমের কাছে একটা অত্যন্ত নিরাপদ সাবমেরিন বেস। এই বেস খুব গোপন এবং সুরক্ষিত। এখান থেকে সাবমেরিনগুলো সহজে বেরোতে এবং ঢুকতে পারবে।

ভারতের নিউক্লিয়ার সাবমেরিন যাত্রা শুরু হয়েছে আইএনএস অরিহন্ত দিয়ে। এটি ২০১৬ সালে কমিশন হয়েছে। এটি ভারতের প্রথম নিজস্ব নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। এর পর আইএনএস অরিঘাত ২০২৪ সালে যোগ দিয়েছে। এখন অরিধামন আসছে। এর পর আরও একটা সাবমেরিন আছে, যাকে এখনো নাম দেওয়া হয়নি। সেটাও শীঘ্রই সমুদ্র পরীক্ষায় যাবে। এতে ভারতের নিউক্লিয়ার ট্রায়াড আরও শক্তিশালী হবে। নিউক্লিয়ার ট্রায়াড মানে স্থল, আকাশ এবং সমুদ্র থেকে নিউক্লিয়ার অস্ত্র ছোড়ার ক্ষমতা।

এই সাবমেরিনগুলো ভারতের নিরাপত্তার জন্য খুব দরকারি। চীন এবং পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো নিজেদের নৌবাহিনী বাড়াচ্ছে। পাকিস্তান চীন থেকে হ্যাঙ্গর-ক্লাস ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন কিনছে। ২০১৫ সালের চুক্তিতে ৫ বিলিয়ন ডলারে আটটা সাবমেরিন কেনার কথা। চীনের নিউক্লিয়ার সাবমেরিনও অনেক। এদের বিরুদ্ধে ভারতকে শক্তিশালী থাকতে হবে। আইএনএস অরিধামন এতে বড় ভূমিকা নেবে।

ভারত আরও পরিকল্পনা করছে। রাশিয়া থেকে চক্রা-থ্রি নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন ২০২৭-২৮ সালে আসবে। জার্মানির সাথে প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর জন্য ছয়টা নতুন সাবমেরিন তৈরির চুক্তির কথা চলছে। এগুলো ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন। এতে ভারতের নৌবাহিনী আরও শক্তিশালী হবে।

আইএনএস অরিধামনের আগমন ভারতের প্রযুক্তি এবং স্বনির্ভরতার প্রমাণ। এটি মেক ইন ইন্ডিয়া প্রোগ্রামের অংশ। অনেক যন্ত্রাংশ ভারতে তৈরি। এতে বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম আছে। এই প্রকল্প অনেক বছর ধরে চলছে। অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু সফল হয়েছে।

এই সাবমেরিনের ক্রু খুব প্রশিক্ষিত। তারা অনেক বছর ধরে ট্রেনিং নিয়েছে। তারা সমুদ্রের নিচে দীর্ঘদিন থাকতে পারে। খাবার, পানি, অক্সিজেন সব ব্যবস্থা আছে। সাবমেরিনের ভিতরে সবকিছু খুব সংগঠিত। প্রত্যেকের কাজ নির্দিষ্ট।

ভারতের নিউক্লিয়ার নীতি শান্তিপূর্ণ। ভারত বলে যে নিউক্লিয়ার অস্ত্র শুধু প্রতিরক্ষার জন্য। কোনো আক্রমণ করবে না। কিন্তু যদি কেউ আক্রমণ করে, তাহলে পাল্টা আঘাত করবে। এই সাবমেরিন সেই নীতিকে মজবুত করে।

এই খবরে অনেকে গর্বিত। ভারত এখন বিশ্বের কয়েকটা দেশের মধ্যে একটা, যারা নিজেরাই নিউক্লিয়ার সাবমেরিন তৈরি করতে পারে। আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ব্রিটেনের পর ভারত। এটি দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রমাণ।

ভবিষ্যতে আরও সাবমেরিন আসবে। আরও উন্নত প্রযুক্তি আসবে। ভারতের সমুদ্র সীমানা রক্ষা করা সহজ হবে। শান্তি বজায় রাখতে এই শক্তি দরকার।

আইএনএস অরিধামনের কমিশনিং ভারতের জন্য একটা মাইলফলক। এটি দেখায় যে ভারত প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হচ্ছে। সবাই এই অগ্রগতিতে খুশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments