মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোবাল রিয়াদে একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক সফরে পৌঁছেছেন। ১৯ এপ্রিল রিয়াদ বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতের রাষ্ট্রদূত ড. সুহেল আজাজ খান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক ডেপুটি মন্ত্রী ড. সৌদ আল-সাতি।
সফরের অংশ হিসেবে অজিত দোবাল সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। তিনি সৌদি এনার্জি মন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. মুসায়েদ আল-আইবানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি, এনার্জি সহযোগিতা এবং দুই দেশের সাধারণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
ভারতের রিয়াদ দূতাবাস জানিয়েছে, এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করা, আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্যালোচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে ফোকাস করা হয়েছে। বিশেষ করে এনার্জি খাতে সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান জটিল পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে গাজা, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যুতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারত সৌদি আরবকে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এনার্জি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে দেখে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। সৌদি আরব ভারতের জন্য একটি মূল্যবান অংশীদার, বিশেষ করে তেল আমদানি, রিনিউয়েবল এনার্জি এবং প্রতিরক্ষা খাতে।
অজিত দোবালের এই সফর ভারতের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত সৌদি আরবের সঙ্গে তার কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করেছে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান এবং উভয় পক্ষই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী। সৌদি আরব ভারতের অন্যতম বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, কাউন্টার টেররিজম এবং বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করা।
অজিত দোবালের এই সফর দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও সমন্বয় বাড়াতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, আঞ্চলিক উত্তেজনার এই সময়ে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও সফরের বিস্তারিত ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে দূতাবাসের তথ্য অনুসারে, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
উৎস: – Embassy of India, Riyadh (X পোস্ট, ২০ এপ্রিল ২০২৬)
– ANI News / The Tribune India (২০ এপ্রিল ২০২৬)
