“আমরা ইতিমধ্যে ভারতের সঙ্গে সিকিউরিটি কো-অপারেশনের ব্যবস্থা করেছি এবং ডকুমেন্টস ফাইনালাইজ করছি”।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার সন্ধ্যার ভিডিও অ্যাড্রেসে ঘোষণা করেছেন যে, ইউক্রেন ও ভারতের মধ্যে সিকিউরিটি কো-অপারেশনের একটি নতুন ব্যবস্থা ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টস এখন ফাইনালাইজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ভারতের সঙ্গে সিকিউরিটি কো-অপারেশনের ব্যবস্থা করেছি এবং সেটি এমনভাবে ফাইনালাইজ করছি যাতে সব ডকুমেন্টস সঠিক জায়গায় আসে।”
জেলেনস্কি আরও জানান যে, আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সিকিউরিটি কো-অপারেশন সংক্রান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি রুস্তেম উমেরভ তাকে সদ্য বিস্তারিত ব্রিফিং দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই ঘোষণাটি আসে ১৭ এপ্রিল ২০২৬-এ NSDC সেক্রেটারি রুস্তেম উমেরভের ভারত সফরের পর। উমেরভ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, ফ্রন্টলাইনের পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইউক্রেন সফরের পর জয়েন্ট স্টেটমেন্টে উল্লেখিত চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলেনস্কি তার ভাষণে বলেন, “আমরা পরবর্তী সপ্তাহে সিকিউরিটি কো-অপারেশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছি।” তিনি এয়ার ডিফেন্স, সেনাবাহিনীর সাপোর্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ভারত ইউক্রেনকে স্বীকৃতি দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদির ইউক্রেন সফর ছিল ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইউক্রেন সফর, যেখানে শান্তি, মানবিক সহায়তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সিকিউরিটি অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করছে। ভারতের সঙ্গে এই নতুন ব্যবস্থা ইউক্রেনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারত ঐতিহ্যগতভাবে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে।
প্রকল্পটির বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং, সাইবার সিকিউরিটি, মানবিক সহায়তা এবং যৌথ প্রশিক্ষণের মতো ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। কূটনৈতিক মহলে এটিকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও গভীরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলেনস্কির এই ঘোষণা আসছে এমন এক সময়ে যখন ইউক্রেন রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে আক্রমণ তীব্র করেছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
উৎস:- Zelenskyy-এর অফিসিয়াল ভিডিও অ্যাড্রেস (১৯ এপ্রিল ২০২৬)
